বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক ফেরত ও ক্ষতিপূরণ মেয়াদ দাবি

২৯ মে, ২০২৪ ১১:৩২  

ফ্রি অফারে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া মোবাইল গ্রাহকদের

ঘূর্ণিঝড় রেমাল তাণ্ডবের সময়ে দেশজুড়ে বিদ্যমান ৫২ হাজার ২৯৮টি সাইট। এরমধ্যে ২৯ মে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৫ হাজার ৩৯২টি সাইট। নিয়ন্ত্রকসংস্থা বিটিআরসি’র চলমান হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ওই সময় পর্যন্ত অচল ছিলো ৭ হাজার ৩৬৪টি সাইট। ফলে ঘুর্ণিঝড়ের ৫০ ঘণ্টা পরেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা।

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে একজন মুঠেফোন গ্রাহক জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ আসার পরও সেখানে নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না। নোয়াখালী, বরিশাল সদর, সিলেটের হবিগঞ্জ সহ ডজন দুয়েক স্থান থেকে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নের মাঝেই দুর্গত এলাকার গ্রাহকের জন্য বিনামূল্যে ১০ মিনিট টকটাইম এবং ৫০০ এমবি ডাটা অফার করেছে দেশের তিনটি মোবাইল অপারেটর। অপারেটরদের ফেসবুক পেজে এই অফারগুলো নিয়ে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের ট্রল। কই পাচ্ছি না তো, হয় নাই, আসে নাই, ভুয়া, জন্মের বাটপার এমন নানা শব্দ ব্যবহার করে মনে খেদ ঝাড়ছেন তারা।

গ্রাহকদের দাবি, অফার নয় আগে নেটওয়ার্ক সচলে মনোযোগী হবে অপারেটরগুলো। এছাগাও জরুরি দরকারে যারা ঘুর্ণিঝড়ের পরের দিন পর্যন্ত মেয়াদ ছিলো নেটওয়ার্ক সমস্যার কারনে তারা যেহেতু নেট ইউজ করতে পারেননি তাই নেটওয়ার্ক ঠিক হওয়ার পর পর্যন্ত তাদের মেয়াদ যেন বর্ধিত করা হয়।

গত ২৭ মে রাত ৯টার দিকে প্রথম এ ধরনের অফার দেয় মোবাইল অপারেটর রবি। এরপর একই অফার দেয় গ্রামীণফোন। তবে ফেসবুকে না দিলেও গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিকেলে ফ্রি অফার দেয় বাংলালিংক। রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিটক অন্য সব অপারেটরের মতো দুঃখ প্রকাশ করে সম্মিলিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

তবে নেটওয়ার্ক থাকলে এই অফার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন গ্রাহক। এ ধরনের অফারের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আশিকুর রহমান একটি স্ক্রিন শট দিয়ে লিখেছেন, ”সাথে সাথেই পেলাম ধন্যবাদ গ্রামীণফোন”। একই পোস্টের নিচে প্রসেস রিকুয়েস্ট এরর এর প্রুফ দিয়ে ইমতিয়াজ খান মুন্না লিখেছেন, ”কথা রাখেনি গ্রামীণফোন”। এমআরআল আমিন নামে অপর একজন গ্রাহকের অভিযোগ, ‘”বিদ্যুৎ নাই নেটওয়ার্ক নাই। বিদ্যুৎ আছে নেটওয়ার্ক আছে। এই টা কোনো সিস্টেম হলো নাকি..“। মাইদুল ইসলাম নামে অপর একজন গ্রাহক লিখেছেন, “ফাইজলামি করার লিমিট থাকে ১০ মিনিট দিয়ে কি করবে? নেটওয়ার্কের যা একটা অবস্থা ১০ মিনিট তো হ্যালো হ্যালো করতে করতে চলে যায় দরকার ছিল ২৪ ঘন্টা ফ্রি গ্রামীন টু গ্রামীনফোনে”।

তবে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে তানজিদ আহমেদ তপু লিখেছেন, “নেটওয়ার্ক আসাতে অফার মেয়াদ শেষ বাহ্ ভালা রে বাংলালিংক সিম? এমবি প্যাক অনেক দাম বাংলালিংক সিম বয়কট করুন”। আহসান সাহেব লিখেছেন, “You are not eligible but we are in costal area. Then who is eligible?”। জয় বিশ্বাসের অভিযোগ, “আমারটা তে হচ্ছে না কেনো”। ক্ষিপ্ততা দেখা গেছে লিমন আহমেদ নামেও একজন গ্রাহকের মন্তব্যে -“বাটপারের বাচ্চা রা, দূর্যোগের সময় তুদের টাওয়ার ই তো অকেজো করে রেখে দেছ।”

এদিকে অফারটি কতদিন পর্যন্ত থাকবে গ্রাহকের এমন প্রশ্নের জবাবে রবি জানিয়েছে আগামী ২ জুন পর্যন্ত চলবে। মহিউদ্দিন নামের একজন লিখেছেন- বিপর্যস্ত ১৭ জেলা ছাড়াও দেশের প্রায় ৩৫টি জেলায় নেটওয়ার্ক নেই। অথচ গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক বিজ্ঞাপন দিচ্ছে ইন্টারনেট ও টকটাইম ফ্রি দিচ্ছে! ইয়ার্কির একটা লিমিট থাকা উচিত।